বাংলাদেশে ম্যান্ডেলা

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, July 18, 2008

বাংলাদেশে ম্যান্ডেলা
শরিফুল ইসলাম হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। ম্যান্ডেলা ছাড়াও ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল সে সময় বাংলাদেশে আসেন। এটিই ছিল ম্যান্ডেলার প্রথম বাংলাদেশ সফর। ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে নয়টায় ম্যান্ডেলাসহ তিন রাষ্ট্রপ্রধান হেলিকপ্টারে করে স্নৃতিসৌধে পৌঁছান। পুষ্কপার্ঘ্য অর্পণের পর নেলসন ম্যান্ডেলা স্নৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর তিনি যোগ দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনী অনুষ্ঠানে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুভেচ্ছা ভাষণ দেন ম্যান্ডেলা। ঐতিহাসিক এই ভাষণে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে এমন একটি জাতিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই আমি বাংলাদেশে এসেছি।’ ম্যান্ডেলা বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন বন্ধু হিসেবে আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
২৬ মার্চ দুপুরে ম্যান্ডেলা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেন। লিখিত বক্তব্য শেষ করে পিনপতন নিস্তব্ধতার মধ্যে সমবেত অতিথিদের সামনে ম্যান্ডেলা কিছু কথা বলেন। ম্যান্ডেলার সে কথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্িথতিতে উপস্িথত সবাইকে অনুপ্রাণিত ও মুগ্ধ করে। বর্ণবাদের অভিশাপে জর্জরিত দক্ষিণ আফ্রিকার উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ম্যান্ডেলা কীভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন তাঁর উল্লেখ ছিল এই ভাষণে।
ম্যান্ডেলা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা কীভাবে জাতি গঠনে মতৈক্যে পৌঁছেছি সে বিষয়টি আজ আপনাদের জানাতে চাই। আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গে আপস আলোচনায় বসেছি তিনটি মৌলিক নীতির ভিত্তিতে। আমরা সেই শত্রুর সঙ্গে আলোচনায় বসেছি, যারা দক্ষিণ আফ্রিকার হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করেছে। তবে আমরা রক্তের উন্নাদনায় কোনো অশুভ শক্তির প্রতি সাড়া দিইনি। আমরা যা কিছু করেছি, দেশের স্বার্থে সাহসের সঙ্গে করেছি।’
ম্যান্ডেলা বলেন, ‘গণহত্যা এড়াতে, নিরীহ জনগণকে রক্ষায় এবং অনেক পরিবারকে খন্ডিত করা থেকে রোধের জন্যই আমরা তিনটি আদর্শ গ্রহণ করি। আলোচনার সময় আমাদের মাথায় এই ভাবনা ছিল, এই আপস আলোচনায় আমরা বা আমাদের শত্রুরা কেউ বিজয়ী হবে না, বিজয়ী হবে সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ। আমরা ভেবেছিলাম, কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়, সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণকে জিততে হবে।’
ম্যান্ডেলা বলেন, ‘আমরা যে রাজনীতিতে বিশ্বাস করি ও মেনে চলি সেটি হলো সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো নারী ও পুরুষ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ, ভারতীয়, শ্বেতাঙ্গ বা অশ্বেতাঙ্গ যার কথাই বলি না কেন, সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে এটি সত্য। আমরা বলতে চেয়েছিলাম, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ভালো নারী ও পুরুষ রয়েছে।’
ম্যান্ডেলা বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর আমরা এটি ঠিক করেছিলাম, সবাই মিলে সরকার গঠন করব। আমাদের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ২৭ এবং দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের সদস্যই রয়েছেন আমাদের সরকারে।’ ম্যান্ডেলা বলেন, ‘আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেস বিংশ শতাব্দীর স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য গর্বিত। আমরা নিঃসঙ্গ নই। আমাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে। কিন্তু আমরা এর অপব্যবহার করতে চাই না। এ কারণেই আমরা দেশে একদলীয় সরকার গ্রহণ করতে পারি না।’

রোবেন তীর্থ

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, July 18, 2008

রোবেন তীর্থ

তীর্থযাত্রীরা সব বাস থেকে নেমে একে একে জড়ো হচ্ছে সমুদ্রপাড়ের জেটিতে। তারা যাবে ১২ মাইল দুরের এক দ্বীপে। গোটা বিশ্ব থেকে তারা এসেছে। কেউবা জাপানি, কেউ ভারতীয়, কেউ মার্কিনি, আবার কেউবা তিব্বতি। তাদের ভাষা, গায়ের রং, নাগরিকত্ব, ধর্ম সব আলাদা, কিন্তু তারা সবাই একই তীর্থের তীর্থযাত্রী, তারা সবাই একই বিশ্বাসের বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাসের নাম মুক্তি− স্বাধীনতা। তারা সবাই মুক্তির পথযাত্রী। তারা যাবে রোবেন দ্বীপে।
তাদের মধ্যে এক বাংলাদেশিও ছিলেন। তিনি এগিয়ে যেতেই দেখলেন, সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ আঙ্গুল উঁচিয়ে কী যেন দেখাচ্ছেন। কী দেখাচ্ছেন তিনি? তাঁর তর্জনী বরাবর তাকালে চোখে পড়ল একটা মিনারের মতো। বৃদ্ধটি বললেন, ‘ওখান থেকে আমরা বন্দীদের ওপর নজর রাখতাম। কেউ পালাতে চাইলে গুলি করতাম।’ বাঙালি ভদ্রলোকটি প্রশ্ন করলেন, ‘আপনার দায়িত্ব কী ছিল?’ বৃদ্ধের মুখ-চোখ যেন এক স্বর্গীয় আলোয় উদ্ভাসিত হলো। বললেন, ‘আমি? আমি নেলসনের সেলের সামনে পাহারা দিতাম।’
আর এখন কী করেন?
‘এখন আমার বন্ধু নেলসন নেই, কিন্তু আমি তাঁর স্নৃতি পাহারা দিই। যারা নেলসনের বন্দী থাকার জায়গাটি দেখতে চায়, তাদের দেখাই, নেলসনের গল্প বলি।’
ইতিহাস কেবল নির্মমই নয়, মহৎ সুন্দরও বটে! যে শ্বেতাঙ্গ লোকটি শ্বেতাঙ্গদের কারাগারে এক মুক্তিকামী কালো মানুষকে পাহারা দিত, সেই মানুষটিই কিনা পরিণত হয়েছিল তার অনুসারীতে, তার ভক্ততে তার বন্ধুতে।
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য যেমন ছিল আন্দামানের কারাগার, তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই করা কালো মানুষদের জন্য রোবেন দ্বীপ ছিল তেমনই এক নিষ্ঠুর বন্দিশালা। কিন্তু সেখানেই ফুটেছিল গত শতকের অন্যতম সেরা মুক্তির পুষ্কপটি। নাম তাঁর নেলসন ম্যান্ডেলা। শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশবাদীরা তাঁর দেশে এসেছিল সভ্য করার নামে দেশটাকে ভোগ করতে। কিন্তু নেলসনের ওই কারারক্ষীই শুধু নয়, আজকে শ্বেতাঙ্গ বিশ্বে নেলসন এক মুক্তিকামী শিক্ষকের মর্যাদায় আসীন। আর রোবেন দ্বীপ সেই শিক্ষকের পাঠশালা। সেই পাঠশালায় আজ সাদা-কালো-হলুদ-বাদামি সব মানুষই আসে শিখতে ও ভালোবাসতে। কালো মানুষটিই শিখিয়েছিলেন, মনের রং সব দেশেই এক, সেখানে শাদা-কালো ভেদ নেই। ম্যান্ডেলা তাই আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মনের মানুষ।
−ফারুক ওয়াসিফ

পোকামাকড়ের ঘরবসতি!

আমার নাম: green tree তারিখ:- Tuesday, July 01, 2008

আরাফাত শাহরিয়ার

পোকামাকড়ের উৎপাত নেই−এ রকম বাড়ি বোধহয় একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মশা, মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়া, ছারপোকা, ইঁদুর, আরশোলা−এ রকম কত ধরনের পোকামাকড় যে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। সারা বছর ধরেই চলে এসব পোকামাকড়ের উৎপাত। তবে বর্ষা মৌসুমে এসব আরও বেশি হানা দেয়। বাড়িতে পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকতেই পারে, তাই বলে আতঙ্কে থাকবেন কেন! একটু সচেতন থেকে সহজ কিছু ব্যবস্থা নিয়ে বাড়িতে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে পারেন। এসব ব্যবস্থা প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। অভিজ্ঞ গৃহকর্তা-গৃহকত্রীদের সঙ্গে কথা বলে পোকামাকড় দুর করার কিছু প্রচলিত পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো।
ইঁদুর
বইপত্র, জামাকাপড় কেটে ফেলছে−এ রকম হলেই মোটামুটি ধরে নিতে পারেন ইঁদুর বাসা বেঁধেছে। ইঁদুরের আবাসস্থল গর্ত হলেও বাসার কোনো খালি বাক্স, বাতিল হয়ে যাওয়া পুরোনো আসবাব, কাপড়ের পোঁটলা, স্তুপ করে রাখা বইয়ের ভাঁজে এরা থাকতে পছন্দ করে। সেই সঙ্গে কেটে সাফ করে ফেলে কাপড়, বই বা এ জাতীয় যে কোনো কিছু। বর্ষার সময় ইঁদুর বাসাবাড়িতে বেশি হানা দেয়। ঘরে ইঁদুর বাসা বাঁধলে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এটি ভয়ানক সব রোগ ছড়ায়। বাসায় বইপত্র, কাপড়চোপড় গুছিয়ে রাখলে ইঁদুরের উৎপাত কমে। ইঁদুরের গর্ত টের পেলে সেটির মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।
পিঁপড়া
বর্ষায় পিঁপড়ার উৎপাত সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। এ সময় দল বেঁধে পিঁপড়া বন্যার পানিতে ভেসে এসে বাসাবাড়িতে ঢোকে। বাসায় মিষ্টিজাতীয় জিনিস না ফেলে বা ফেললেও সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্ককার করে ফেললে পিঁপড়ার প্রাদুর্ভাব কমানো যায়। পিঁপড়া ঢোকার রাস্তায় ও গর্তের মুখে সরিষার তেল ও কেরোসিন ঢেলে দিলে এ ক্ষেত্রে বেশ কাজে দেবে।
ছারপোকা
ছারপোকার বংশবৃদ্ধি হয় বিছানা, আসবাবপত্র ও জামা-কাপড়ের মধ্যে। এর হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজের সচেতনতাই যথেষ্ট। ঘর, আসবাব ও কাপড়চোপড় পরিষ্ককার-পরিচ্ছন্ন রাখলে সাধারণত ছারপোকা বাসা বাঁধে না। বিছানা বা তোষক, বালিশ ও চাদর নিয়মিত রোদে দিলে ছারপোকা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বাড়ির দেয়ালে বা খাটে কোনো ছিদ্র থাকলে সেটির মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। এ ছাড়া শোয়ার খাটকে দেয়াল থেকে কিছুটা দুরে রাখতে পারেন। প্রতিদিন বিছানা ভালো করে ঝাড়ু দিতে হবে।
মশা
গরম, শীত, বর্ষা−সব মৌসুমেই মশার উপদ্রব। আশপাশে ডোবানালা, পুকুর ও আবর্জনা থাকলে মশা বেশি থাকে। মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। বাড়িতে বা বাড়ির আশপাশে কোনো পাত্রে পানি জমিয়ে রাখবেন না, তা থেকে ভয়ঙ্কর সব রোগবাহী মশা বংশ বিস্তার করতে পারে। মশা সাধারণত সন্ধ্যার সময় দল বেঁধে বাসার জানালা দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় জানালা বন্ধ রেখেও মশার প্রাদুর্ভাব কমানো যায়। তবে মশার হাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় রাতে মশারি লাগিয়ে ঘুমানো।
মাছি
খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন মাছি বসতে না পারে। পরিষ্ককার-পরিচ্ছন্নতাই মাছি থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। রান্না বা খাওয়ার ঘরে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে রাখলে মাছি কম আসে। যেসব জায়গায় ময়লা ফেলা হয় সেখানে বোরিক এসিড (পাউডার) ছড়াতে পারেন। প্রতিদিন ঘরদোর মোছার সময় ফিনায়েল বা এ জাতীয় তরল ব্যবহার করতে পারেন।
তেলাপোকা
বাসাবাড়িকে তেলাপোকামুক্ত রাখতে চাইলে যথাসম্ভব তকতকে-ঝকঝকে করে রাখা চাই। কিন্তু তার পরও যদি তেলাপোকা বাসা বাঁধে তবে পোকা মারার ওষুধ ছিটাতে পারেন। কাগজের বাক্স বা এ জাতীয় কিছুতে বাসা বাঁধে তেলাপোকা। সেখানে বংশ বিস্তারও করে এরা। তাই তেলাপোকার হাত থেকে বাসাকে নিরাপদ রাখতে চাইলে প্রধমে বংশ বিস্তার রোধ করতে হবে। এ জন্য বাসায় অপ্রয়োজনীয় কোনো কাগজের বাক্স, টিনের কৌটা, প্লাস্টিকের বাক্স বা এ জাতীয় কোনো কিছু থাকলে তা ফেলে দিতে হবে।
সপ্তাহের যেকোনো এক দিন ঘরের আসবাব ভালো করে পরিষ্ককার করুন। এ ছাড়া ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আসবাবে কোনো ছিদ্র বা ফাঁক থাকলে সেটি বন্ধ করে দিতে হবে। ঘরের বিভিন্ন কোণে, দেয়ালে ও ফাটলে চিনির সঙ্গে বোরিক পাউডার মিশিয়ে ছড়িয়ে দিলে এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ হয়।
অন্যান্য
বর্ষার সময় সাপের উপদ্রব বেশি হয়। কার্বলিক এসিড ঘরে রাখলে আশপাশে সাধারণত সাপ থাকে না। এ ছাড়া অনেক বাসাতেই হানা দেয় ঘুণপোকা। ঘুণপোকা প্রতিরোধে কেরোসিন বেশ কাজে দেয়। অনেক বাড়িতেই চিকা বিচ্ছিরি পরিবেশের সৃষ্টি করে। চিকার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এর ঢোকার পথ বন্ধ করে দিতে হবে। এ ছাড়া কিছু কিছু পোকা আছে যেগুলো হঠাৎ করেই দল বেঁধে উপস্িথত হয় বাড়িতে। এদের মধ্যে কিছু পোকা গন্ধও ছড়ায়। আবার কিছু পোকা আলো বা বাল্বের আশপাশে ঘুরতে থাকে। ঘরের বাতি নিভিয়ে দিয়ে বাইরের কোনো আলো জ্বালিয়ে এসব পোকা সরিয়ে নেওয়া যায়। তবে সাধারণত সন্ধ্যার পরপরই নানা ধরনের পোকা দল বেঁধে বাড়িতে ঢোকে। এই সময়টা দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও এসব পোকার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।
পোকামাকড় মারার ওষুধ
সাধারণভাবে সতর্ক থাকার পরও যদি পোকামাকড়ের উৎপাত না কমে, তবে পোকা মারার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।বাজারে ম্যাজিক জাদু, ফাইটার ম্যাজিকসহ ইত্যাদি চক পাওয়া যায়। এসব চক তেলাপোকা, ছারপোকা, পিঁপড়া, উইপোকা ইত্যাদি পোকামাকড় মারতে ব্যবহার করতে পারেন। ফিনিস ইনসেক্ট পাউডার ও চায়না ইনসেক্ট পাউডারও এসব ক্ষেত্রে বেশ কাজে দেবে। ইঁদুর মারার জন্য ইবিচ, চায়না, র‌্যাটমসহ কিছু ওষুধ বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া অনেকেই ইঁদুর মারার জন্য ফাঁদও ব্যবহার করেন। মশা-মাছি মারার জন্য গ্লোব, মরটিন, গুডনাইট ইত্যাদি কয়েল, বৈদ্যুতিক ম্যাট ও তরল পদার্থ পাওয়া যায়। বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মশা মারার কয়েল পাওয়া যায়। আরও আছে অ্যারোসল, মরটিনসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের পোকা মারার তরল পদার্থ।এগুলো স্প্রে করে দিতে হয়।
ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
যেখানে পোকামাকড় বসবাস করে বা ডিম পাড়ে সেসব জায়গায় যেমন দেয়াল, বিভিন্ন ফাটল, রান্নাঘর, স্টোররুম, গোসলখানা, বিছানা, স্যাঁতসেঁতে মেঝে−এসব জায়গায় পোকা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে। অযথা বাড়ির সব স্থানে ছিটানোর দরকার নেই। আর যেসব জায়গায় ওষুধ ছিটানো হয়েছে, সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই স্থানটি পরিষ্ককার করে ফেলতে হবে। এসব ওষুধ বিষাক্ত, তাই সব সময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। অসাবধানতা বা ভুলবশত কেউ মুখে দিলে বা খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর ওষুধ কেনার সময় প্রস্তুত ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং মান ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রুপ

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, June 20, 2008

আহমাদ মোস্তফা কামাল : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর লেখালেখির প্রথম জীবনে ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ শিরোনামে একটি গল্প লিখেছিলেন। একটি অসাধারণ পঙ্ক্তি দিয়ে গল্পটি শুরু হয়- ‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হলো।’ এটি কি কোনো গল্পের লাইন, নাকি কবিতার? ‘মনোরম’ আর ‘মনোটোনাস’ এই দুই আপাত বিরোধপূর্ণ শব্দের সহাবস্থান এই প্রশ্নের জন্ম দেয় বৈকি! কবিরা এমন লিখতে পারেন, লেখেনও। কবিতার অ্যালিগরি বলে একটা ব্যাপার আছে, কিন্তু' কোনো গদ্যকার কি সচেতনভাবে এমনটি লিখবেন? লিখলে- একটি শহর কীভাবে একইসঙ্গে মনোরম এবং মনোটোনাস হয় গল্পকারকে এমন প্রশ্নে জর্জরিত হতে হবে। গল্পকাররা নানাদিক থেকেই দুর্ভাগ্যবান- পাঠকরা তাদের এতোটুকু ত্রুটিও (!) ক্ষমা করে না। গদ্যের জন্য কাব্যিক ভাষাকে রীতিমতো নিন্দার চোখে দেখা হয় এ দেশে, যেন গদ্যকে আবশ্যিকভাবে কাঠখোট্টা হতে হবে! গল্পের মধ্যে আবেগ থাকা তো গর্হিত অপরাধ, সমালোচকরা রীতিমতো মৃত্যুদণ্ডই দিয়ে দেন লেখককে, যেন ‘নিস্পৃহ’ ‘নির্মোহ’ ‘নিরাসক্ত’ হওয়ার কোনো বিকল্পই তাঁর সামনে খোলা নেই! যাকগে, এই আলোচনা বাদ দিয়ে বরং ওই একই গল্পের আরো কয়েকটি লাইন পড়ে নিতে পারি আমরা-
‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হলো। রাত এগারোটা পার হয় হয়, এখনো রাস্তায় রিকশা চলছে ছল ছল করেঃআমার জানলায় রোদন-রূপসী বৃষ্টির মাতাল মিউজিক, পাতাবাহারের ভিজে গন্ধভরা সারি, বিষাদবর্ণ দেওয়াল; অনেকদিন পর আজ আমার ভারি ভালো লাগছে। ছমছম করা এই রাত্রি, আমাই জন্য তৈরি এরকম লোনলি-লগ্ন আমি কতোদিন পাইনি, কতোকাল, কোনোদিন নয়। বৃষ্টি-বুনোট এইসব রাতে আমার ঘুম আসে না, বৃষ্টিকে ভারি অন্যরকম মনে হয়, বৃষ্টি একজন অচিন দীর্ঘশ্বাস। এইসব রাতে কিছু পড়তে পারি না আমি, সামনে বই খোলা থাকে, অক্ষরগুলো উদাস বয়ে যায়, যেন অনন্তকাল কুমারী থাকার জন্য একজন রিক্ত রক্তাক্ত জন্মদান করলো এদের। চায়ের পেয়ালায় তিনটে ভাঙা পাতা ঘড়ির কাঁটা হয়ে সময়কে মন্থর কাঁপায়। ষাট পাওয়ারের বাল্বে জ্বলছে ভিজে আলো, আর চিনচিন করে ওঠে হঠাৎ, কতোদিন আগে ভরা বাদলে আশিকের সঙ্গে আজিমপুর থেকে ফিরলাম সাতটা রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে, ‘তুই ফেলে এসছিস কারে’, সেই সোনার শৈশবে ভুল করে দ্যাখা একটি স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো টলটল করে। আমার ঘুম আসে না, আলোর মধ্যে একলা জেগে রই।ঃ’
মনে কি হয় না যে, একটি কবিতা পড়ছি? মনে কি হয় না, যেন কোথাও থেকে বিষণœতা ঝরছে! মনে কি হয় না যেন এইমাত্র একটা কথাহীন অব্যাখ্যাত সুর শুনে উঠলাম! এই পঙ্ক্তিগুলো পড়ে মনে কি হয় না যে, এই ইলিয়াসকে আমরা চিনি না? গল্পটি নিয়ে আরও এগিয়ে গেলে আমাদের সঙ্গে রঞ্জুর পরিচয় হয়Ñ এক বিষণœ একাকী যুবক, খানিকটা অস্বাভাবিক, হয়তো ব্যাখ্যহীন কোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত। আমরা এগিয়ে চলি, তার মতো আমরাও বিষণ্ণ হতে থাকি, একা হতে থাকি, আর পড়া শেষ হয়ে গেলে মনে হয়Ñ একবার পড়ে এই গল্পটি বোঝা হয়ে উঠলো না। আবার পড়ার জন্য হাত বাড়াই, আবারও বিষণœ হই, কখনো হয়তো চোখের কোণ ভিজেও ওঠে, কিš' এবারও মনে হয়Ñ আবার পড়তে হবে এই গল্প। কোনো কোনো কবিতা মানুষ ফিরে ফিরে পড়ে, বহুবার পড়ে, হয়তো সাধ মেটে না বলেই পড়ে কিংবা সেটি তার সূক্ষè অনুভূতিকে আরও তীক্ষè করে তোলে বলে পড়ে। কিš' গল্প? কোনো গল্প কি একই পাঠকের কাছে বহুবার পঠিত হওয়ার সৌভাগ্য
অর্জন করে? সাধারণত করে না। যেটি করে সেটি উজ্জ্বলভাবে ব্যতিক্রমÑ ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ সেই ধরনের গল্প। কী হলো রঞ্জুর, কী হলোÑ এই ভাবনায় আক্রান্ত হয়ে আমরা ইলিয়াস ঘাঁটি এবং বহুদিন পর তাকে পেয়ে যাই চিলেকোঠায়। সেই একইরকমÑ বিষণœ ও একাকী। অসুস্থ ও চলমান জীবনে অংশগ্রহণহীন। অবশেষে তাকে হাড্ডিখিজিরের দেখানো পথে হারিয়ে যেতে দেখলে আমরা আবারও তার পরিণতি জানার জন্য ইলিয়াস হাতরাই এবং দেখি তাঁর শেষ উপন্যাস ‘খোয়াবনামা’য় এই রঞ্জুই তমিজের বাপ হয়ে উপস্থিত হয়েছে। দেখি, ইলিয়াস বারবার রঞ্জুর কাছে ফিরে এসেছেন। ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’র রঞ্জু, ‘চিলেকোঠার সেপাই’-এর ওসমান আর ‘খোয়াবনামা’র তমিজের বাপÑ এই তিনজন আসলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই চরিত্র। তিনজনই খানিকটা অস্বাভাবিক, অসুস্থই বলা চলে, তিনজনই ঘোরগ্রস্ত, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কহীন নিষ্ক্রিয় মানুষ। তিনজনের পরিণতিও একÑ অস্বাভাবিক মৃত্যু। অথচ এর ঠিক বিপরীত চরিত্রও নির্মাণ করেছেন ইলিয়াস। ‘চিলেকোঠার সেপাই’-এর আনোয়ার কিংবা ‘খোয়াবনামা’র তমিজ সেই ধরনের চরিত্র।
আমাদের চারপাশেই এমন কিছু মানুষ আছে যারা বাস্তবতার মধ্যে বাস করে না, করে ফ্যান্টাসি বা কল্পনার জগতে, সমাজে থেকেও এই লোকগুলো জনজীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন। ইলিয়াস তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি, এমনকি বিদ্রƒপও করেননি তাদের নিয়ে, যেমন করেছেন মধ্যবিত্তদের, বরং তাদের প্রতি তাঁর এক গভীর সহানুভূতি টের পাওয়া যায়। যে রঞ্জুকে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর প্রথম জীবনে, তাকেই ফিরিয়ে এনেছিলেন ওসমান এবং তমিজের বাপের মধ্যে, আমার কাছে মনে হয়েছে ওসমান ও আনোয়ার একই চরিত্রের এপিঠ-ওপিঠ, কিংবা তমিজ ও তমিজের বাপও একই চরিত্রের এপিঠ-ওপিঠÑ একজন নিঃসঙ্গ, অসহায়, নৈরাশ্যপীড়িত, বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ; আরেকজন সক্রিয়, আশাবাদী, সমকালের আয়োজন ও প্রয়োজনের সঙ্গে একাত্ম। একজন মানুষের মধ্যে একইসঙ্গে পরস্পরবিরোধী মানুষ বাস করেÑ এইসব স্পি­ট পার্সোনালিটি নির্মাণ করে ইলিয়াস হয়তো সেটিই দেখাতে চেয়েছেন।
আমাদের সবার মধ্যেই কি একই সঙ্গে একাধিক মানুষ বাস করে না? নিজেদের যে রূপটিকে আমরা সমাজের কাছে পরিচিত করে তুলি, সেটিই কি একমাত্র রূপ? তার আড়ালে কি আরো এক বা একাধিক রূপ লুকিয়ে থাকে না? একজন মানুষ কি আসলে একজনই মানুষ, নাকি একইসঙ্গে অনেক মানুষ?
কিš' যতো কথাই বলি না কেন, রঞ্জুর কথা ভুলে যাওয়া আমাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হয় না বলে আমরা আবারও তার পরিণতি জানার জন্য ইলিয়াস হাতরাই, কিš' আর কিছু জানার আগে তিনি নিজেই এক অনন্ত যাত্রায় পথিক হন। আমাদের খোঁজ তবু থামে না। এবার অতঃপর, আমরা আবিষ্কার করিÑ একটি দৈনিক পত্রিকায় মামুন হুসাইন ‘স্বগত মৃত্যুর পটভূমি’ শিরোনামের গল্প অথবা স্মৃতিকথা ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করেছেন, মঞ্জু ভাই যার প্রধান চরিত্র। কিš' আমরা ধন্ধে পড়িÑ একি মঞ্জু ভাই নাকি রঞ্জুর কাহিনী? ইলিয়াস কি তবে নিজেকেই নির্মাণ করেছিলেন ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ গল্পে? লেখাটি মামুনের ‘মানুষের মৃত্যু হলে’ বইতে গ্রন্থিত হলে আমরা আবার পড়ি, আমাদের ঘোর লাগে, দেখি আমাদের রঞ্জু অথবা ইলিয়াস ভাই অথবা মঞ্জু ভাই চলে এসেছেন তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা নিয়ে, তাঁর গল্প উপন্যাস এবং সেসবের চরিত্রগুলো নিয়ে। গল্পটি আমরা পড়ে যাই, ইলিয়াসের বাগ্মিতায় মুগ্ধ হইÑ মানুষ, মানব জীবন আর মৃত্যুবিষয়ক দার্শনিক উপলব্ধি আমাদের ঘোর বাড়িয়ে দেয়। শুনতে পাইÑ ইলিয়াস বলছেনÑ
‘ওয়ান মাস্ট হ্যাভ সাইকোলজিক্যাল প্রিপারেশন ফর ডেথ’।
বলছেনÑ ‘লাইফ ইজ টু বি লিভড টু ইটস ফুলেস্ট সো দ্যাট ডেথ ইজ জাস্ট অ্যানাদার চ্যাপ্টারঃ যখন তুমি মরবেঃ দেখবে স্মৃতি উড়ছে বাতাসেঃঅ্যান্ড অল আওয়ার মেমোরিস, অল আওয়ার ওয়ার্কস অ্যান্ড অল আওয়ার ডিডস উইল কনটিনু ইন আদার্স।’
দেখি রচিত হচ্ছে আরো আরো চমৎকার পঙ্ক্তিÑ
‘জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রƒপ, এর মজাটা বোঝা একটু শক্ত’
‘ঃআমি অনেক দিন ভেবে দেখেছি, পুরুষেরা কিছু খাপছাড়া আর মেয়েরা সুসম্পূর্ণ’
‘দেখেছি সরলতাই মানুষের স্বাস্থ্যের একমাত্র উপায়’
‘বড়ো দুঃখের চেয়ে ছোটো দুঃখ যেন বেশি দুঃখকর। ছোটো দুঃখের কাছে আমরা কাপুরুষ কিš' বড়ো দুঃখ আমাদের বীর করে তোলে’
‘দুনিয়া হলো চারদিনের আয়ু, তা দুদিন গেলো চাইতে চাইতে, দুদিন গেলো অপেক্ষায়।’
আর এসব শুনতে শুনতে আমাদের ঘোরগ্রস্থতা আরো বাড়ে, আমরা বিভ্রান্ত হই। মনে হয় এইমাত্র ইলিয়াসের সমগ্র জীবনটিকেÑ তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্তÑ আমরা দেখে উঠলাম। আমরা ভুলে যাইÑ এটি একটি গল্প, ভুলে যাবো বাস্তব আর কল্পনার পার্থক্য; কোনটা বাস্তব, কোনটা কল্পনা, কোনটা ইলিয়াস বলছেন আর কোনটা মামুন হুসাইন ইলিয়াসের মুখে বসিয়ে দিচ্ছেন সেটা নির্ণয় করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠবে। এবং আমরা টের পাবো, এবার আমরা সত্যিই অনুভব করতে পারছিÑ ‘জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রƒপ, এর মজাটা বোঝা একটু শক্তঃ’
সত্যিই জীবন একটা গম্ভীর বিদ্রƒপ! এর সবকিছু তাই বুঝে ওঠা যায় না!

হয়ে ওঠার দিন

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, June 20, 2008

আগামীকাল ২১ জুন কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্নদিন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন তাঁর একসময়ের সঙ্গী সুকোমল বল
রতুদা আমার মামাতো ভাই। আমার বড় ভাই পরিমল ও আমার জন্েনর মাঝামাঝি সময়ে তার জন্ন। পরিমলদা, রতুদা ও আমি স্কুলের গন্ডি পেরোই যথাক্রমে ১৯৬১, ’৬২ ও ’৬৩ সালে, ভিন্ন ভিন্ন স্কুল থেকে। ইন্টারমিডিয়েট কিন্তু তিনজনেরই একই বিদ্যাপীঠ থেকে; এক বছর পরপর ভর্তি হই আনন্দমোহন কলেজে। প্রথম কলেজ এবং কলেজের হিন্দু হোস্টেলের স্নৃতি তিনজনেরই প্রায় একই রকম। সম্পর্কে আমরা ছিলাম ভাই, ওই সময়ে আমরা বন্ধু হয়ে উঠি।
পরিমলদা ১৯৬৩ সালে আইএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়। রতুদা তখন আইএসসি দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছে, আমি প্রথম বর্ষে। রতুদাকে পেয়ে আমি পরিমলদার অভাবটা অনুভব করিনি। রতুদা ছিল খুবই আমুদে ধরনের হই-হুল্লোড় করা ছেলে। ১৯৬৪ সালে আইএসসি ফাইনাল পরীক্ষার আগে আগে হিন্দু হোস্টেলের কতিপয় কুপমন্ডুক ধরনের ছাত্র হোস্টেল সুপারের কাছে রতুদার নামে কিছু মিথ্যা অভিযোগ করে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শেষ পর্যন্ত রতুদা আনন্দমোহন কলেজ ছেড়ে নেত্রকোনা কলেজে চলে যায়। এতে আমার ক্ষতি হলো, বন্ধু ও ভাইয়ের সান্নিধ্য হারালাম। কলেজের ক্ষতি−একজন মেধাবী ছাত্রের বিদায়। নেত্রকোনা কলেজ থেকে রতুদা যথারীতি প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করল।
আইএসসি পাস করে রতুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। পরে ভর্তি ফি জমা দিতে গিয়ে দেখে, কোনো অদৃশ্য কারণে তার নামটি নির্বাচিতদের তালিকা থেকে কাটা। তখন সে বাধ্য হয়ে পুনরায় আনন্দমোহন কলেজে এসে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হয়। এদিকে ’৬৪ সালের দাঙ্গার মানসিক অভিঘাত সামলাতে না পেরে পরিমলদাও ঢাকা ছেড়ে চলে আসে এবং অবশেষে আনন্দমোহনেই পাস কোর্সে ভর্তি হয়। রতুদা ও পরিমলদা এবার হলো উভয়ে উভয়ের সহপাঠী। ডাবল ফাস্র্ব ডিভিশন পাওয়া দুজন মেধাবী ছাত্রের এই পরিণতিটা ছিল খুবই দুঃখজনক। দুজনই তখন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তখন সময় পার করাই যেন তাদের একমাত্র কাজ।
’৬৫ সালে আমার ইন্টারমিডিয়েট শেষ হলো। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির উদ্দেশে আমি ঢাকামুখী হলাম। একই উদ্দেশে রতুদাও এবার আমার সঙ্গী হলো। খুবই ভালো লাগল আমার। দুজনেই যদি চান্স পেয়ে যাই, ময়মনসিংহের হিন্দু হোস্টেলের মতো ওখানেও রতুদার সঙ্গ খুবই আনন্দদায়ক হবে।
তিন ধাপে পরীক্ষা−লিখিত, ভাইভা ও মেডিকেল। আমি কীভাবে যেন টিকে গেলাম। রতুদা ভাইভায় বাদ পড়ল। এই বাদ পড়ার ব্যাপারে রতুদা তার আত্মস্নৃতি আমার কন্ঠস্বর-এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, পাকিস্তান আমলে এ রকম ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ছিল। ফার্মেসি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করলে রতুদার মতো মেধাবী ছাত্র কর্মজীবনে খুবই সুনাম অর্জন করতে পারত। তবে বাংলা ভাষা নির্মলেন্দু গুণের মতো একজন কবিকে পেত কি না সন্দেহ।
রতুদা ফিরে গেল আনন্দমোহনেই। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজে থাকতে কবিতা লিখত। নেত্রকোনা থেকে প্রকাশিত উত্তর আকাশ পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হতো তার লেখা। এবার ময়মনসিংহ থেকেও ঢাকার পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠাচ্ছে, ছাপাও হচ্ছে নিয়মিত।
আমি তখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানউল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। রতুদা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যাতায়াত শুরু করল। ঢাকায় তার অনেক বন্ধু-বান্ধব। প্রথম দিকে আমার কাছেই বেশি উঠত। সে তখন মফস্বলের উঠতি কবি। ঢাকার কবি-সাহিত্যিক মহলে পরিচিত হতে পত্রপত্রিকার অফিসে যাতায়াত শুরু হলো। আমি প্রায়ই সঙ্গী হতাম। দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান ও সমকাল অফিসে অনেকবার গেছি তার সঙ্গে। সেটা বোধ হয় ’৬৬ সাল। দৈনিক আজাদ-এর কবি হাবীবুর রহমান, দৈনিক পাকিস্তান-এর কবি আহসান হাবীব ও সমকাল-এর কবি সিকানদার আবু জাফরকে ওই সময়েই প্রথম দেখি। আহসান হাবীবের কবিতা আমাদের পাঠ্যসুচিতে ছিল। ছোটবেলায় ভাবতাম, যাঁদের কবিতা আমরা পাঠ্য বইয়ে পড়ি, তাঁরা অধিকাংশই হয়তো প্রয়াত অথবা আমাদের নাগালের বাইরের কোনো কল্পলোকের বাসিন্দা। আহসান হাবীবকে একেবারে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলাম।
একবার একটি কবিতা সংকলনের পান্ডুলিপি নিয়ে রতুদা আমার কাছে আসে। নাম সুর্যফসল। সংকলনটিতে কেবল নেত্রকোনায় বসবাসকারী কবিদের কবিতা ছিল। আমি নেত্রকোনায় দত্ত হাইস্কুলে দুই বছর পড়াশোনা করে এসএসসি পাস করি। ওই সময় উত্তর আকাশ পত্রিকায় কবিতা লিখতাম। তার পরও সংকলনটিতে আমার কবিতা না থাকায় আমি একটু কষ্ট পেয়েছিলাম। রতুদা আমার মনোভাব বুঝে ব্যাখ্যা করল−কেবল নেত্রকোনায় জন্নগ্রহণকারী অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী কবিই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আরও সান্ত্বনা দিতে প্রকাশক হিসেবে আমার নাম এবং আমার ঠিকানা ২৫৬ আহসানউল্লাহ হল দিয়ে দিল। ভুমিকায় ছাপার জন্য কবি সিকানদার আবু জাফর তাঁর কবিতার কয়েকটি লাইন স্বহস্তে লিখে দিয়েছিলেন। সেদিনও আমি সেখানে উপস্িথত ছিলাম। কবিতার লাইনগুলো হলো, ‘এই কালো রাত্রির সুকঠিন অর্গল আমরা যে কোনোদিন ভাঙবোই,/মুক্ত প্রাণের সাড়া আনবোই...।’
সুর্যফসল প্রকাশিত হওয়ার পর রতুদা ঢাকার অনেক কবি-সাহিত্যিককে ও পত্রিকায় কপি দিয়ে আসে। আমাকেও এক কপি দেয়। ছাপার অক্ষরে প্রকাশক হিসেবে আমার নাম দেখে খুবই পুলক অনুভব করেছিলাম। বন্ধু-বান্ধবের চোখে ঈর্ষারও কিছু ঝিলিক দেখেছিলাম। পরে সংকলনটি সরকারের রুদ্ররোষে পড়ে এবং নেত্রকোনায় রতুদাকে তো বটেই, ঢাকায় আমাকেও যথেষ্ট হ্যাপা পোহাতে হয়। কিছু না করেও আমি প্রকাশক, প্রকাশক হওয়ার কী জ্বালা, তখন কি জানতাম!
প্রথম দিকে রতুদা ময়মনসিংহে থেকেই মাঝেমধ্যে ঢাকায় যাতায়াত করত। একসময় আনন্দমোহনের লেখাপড়া অসম্পুর্ণ রেখে ময়মনসিংহের পাট চুকিয়ে ঢাকায় চলে আসে। তত দিনে ঢাকার পত্রপত্রিকায় তার কবিতা নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। ঢাকায় জড়ো হওয়া দেশের তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গেও পরিচয় হয়ে গেছে। তবে আহসানউল্লাহ হল ও আমার সঙ্গে আমার ঢাকা ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত যোগাযোগ থেকেই যায়। তরুণ কবিদের অনেকেই ছিলেন বোহেমিয়ান। তাঁরা ছিলেন ‘যেখানে রাত, সেখানে কাত’-এ বিশ্বাসী। শুধু রতুদা নয়, অন্য অনেক তরুণ কবির রাত্রিযাপন ও আহারের জন্য আমার আহসানউল্লাহ হলের কক্ষটির দুয়ার ছিল খোলা। সেই সস্তা-গন্ডার দিনে হলের ডাইনিংয়ে এক টাকা হারে গেস্ট আপ্যায়ন করতে আমার কখনো কোনো কষ্ট হয়নি। আমার স্কলারশিপে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ছিল যথেষ্টই। সেই সামান্য ব্যয়ের বদৌলতে যে আনন্দ পেয়েছি, তাকে সামান্য বলা যায় না।
সেই সময় নাট্যকার মামুনুর রশীদ, কবি সাযযাদ কাদির, সুব্রত বড়ুয়া, আবুল হাসান, আবুল কাসেমসহ (২৫ মার্চের শহীদ) অনেকের সঙ্গেই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রতুদা এবং এঁদের সঙ্গ লাভের আশায় প্রায়ই পাবলিক লাইব্রেরিসংলগ্ন শরিফ মিয়ার কেন্টিনে যাতায়াত করতাম। শহীদ আবুল কাসেম তো কোত্থেকে একটি খাট জোগাড় করে আহসানউল্লাহ হলের এক রুমের স্থায়ী বাসিন্দাই হয়ে গিয়েছিল। আমি হল ছেড়ে যাওয়ার পর সে জগন্নাথ হলে আস্তানা গাড়ে, ওখানেই ২৫ মার্চ রাতে শহীদ হয়।
আহসানউল্লাহ হলে শ্যামাপ্রসাদ চক্রবর্তী ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শখ করে সে গ্রান্ডিক ব্রান্ডের একটি টেপরেকর্ডার কিনেছিল। রতুদা তার সদ্য রচিত ‘হুলিয়া’ কবিতাটি ওই টেপরেকর্ডারে নিজের কন্ঠে রেকর্ড করে। কবিতাটি এভাবে আমাদের অনেকেরই প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল প্রকাশিত ও বিখ্যাত হওয়ার আগেই।
সদ্য নির্মিত পূর্বাণী হোটেলে একটি কবিতা পাঠের আসর হয়েছিল। ওখানে রতুদা কবিতা পাঠ করেছিল এবং আমি যথারীতি ছিলাম তার সঙ্গী। নবাবপুরের মাথার মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটেও গেছি অনেক সন্ধ্যায়। একবার গিয়েছিলাম তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নাটক দেখতে। নাটকটি বোধ হয় ছিল মামুনুর রশীদ রচিত, পরিচালিত ও অভিনীত। মামুনুর রশীদ তখন ওখানকার ছাত্র। একবার ডিআইটিতে টিভি ভবনে রতুদার একটি কবিতা আবৃত্তির লাইভ প্রোগ্রাম ছিল। সে আবৃত্তি করবে এবং একজন শিল্পী আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডে ওই কবিতার চিত্রকল্পগুলো আঁকবে। আমি খুব কাছে বসে সেই ব্রডকাস্টিং দেখেছিলাম। তবে সেটা ষাটের দশকের না সত্তরের দশকের ঘটনা মনে নেই।
ড. গোবিন্দচন্দ্র দেবের সঙ্গে রতুদার এবং ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সঙ্গে আমার বিশেষ পরিচয় ছিল। কোনো বিশেষ কারণে আমি জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সঙ্গে রতুদার পরিচয় করিয়ে দিই, রতুদাও গোবিন্দচন্দ্র দেবের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। এই দুই মহান ব্যক্তিত্বই ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ শহীদ হন।
সত্তরের প্রথম দিকে আমি পাস করে দিনাজপুরে এক চিনিকলে চাকরি নিয়ে চলে যাই। তখনো রতুদার কোনো বই বেরোয়নি। তবে পত্রপত্রিকায় কবিতা ছাপা হচ্ছে; তরুণদের কাছে সেসব কবিতা জনপ্রিয় হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুনভাবে ছাত্রত্ব গ্রহণের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও তার মুখর পদচারণ।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি ঢাকা ছেড়ে বাড়ি হয়ে ময়মনসিংহ গেছি। একটি নতুন কেনা হোল্ডঅল ও সুটকেস নিয়ে মধ্যরাতে অপেক্ষা করছি ময়মনসিংহ জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। সঙ্গে আমার বাবা যতীন্দ্র কুমার বল ও বাবার অসম বয়সী বন্ধু সুখেন্দু দা। অপেক্ষা করছিলাম ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী নর্থবেঙ্গল মেইল নামের ট্রেনটির জন্য। হঠাৎ প্ল্যাটফর্মে রতুদার বাবা আমার মামা সুখেন্দু প্রকাশ গুণের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সঙ্গে অসুস্থ কন্যা রূপালী। নর্থ বেঙ্গল থেকে আসা ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন।
ময়মনসিংহ জংশন তখন মধ্যরাতে খুব সরগরম হয়ে ওঠে। এদিকের চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং ওপারের দিনাজপুর, সান্তাহার, রাজশাহী, খুলনা থেকে আসা ট্রেনগুলো কাটাকাটি ও একটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া দেওয়া হতো ময়মনসিংহ স্টেশনে। মামা বাবাকে জানালেন, রূপালীর চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছেন। তারপর আমরা কোথায় যাচ্ছি জানতে চাইলেন। আমি দিনাজপুরে চাকরি পেয়েছি, জানালেন সেখানে যাচ্ছি। মামা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন−‘যতীন, আমিও ভেবেছিলাম রতু একদিন এভাবে নতুন হোল্ডঅল, সুটকেস নিয়ে দুরে কোথাও চাকরি করতে যাবে, আর আমি তাকে স্টেশনে তুলে দিতে আসব। তার বদলে সে ঢাকার কোথায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
মামার হাহাকারটুকু আমার মনে খুব বেজেছিল। রতুদা আমাদের সবার খুব প্রিয় মানুষ। পিতৃ-মাতৃকুলের আত্মীয়ের মধ্যে সে-ই কেবল তখনকার পূর্ব-পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশে অপ্রবাসী থেকে সব সময় আমাদের নৈকট্য ও সাহস দিয়ে এসেছে। আজ ভাবি, মামার সেই দীর্ঘ নিঃশ্বাসটি বোধ হয় তৎক্ষণাৎ আশীর্বাণী হয়ে রতুদার ওপর বর্ষিত হয়েছিল।
সৌভাগ্যের বিষয়, মামা রতুদা অর্থাৎ নির্মলেন্দু গুণের প্রতিষ্ঠার অনেকটাই দেখে গেছেন।

দেব ন জানন্তি

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, June 20, 2008

দেব ন জানন্তি
আন্তন চেখভ
অনুবাদ: শেখ আবদুল হাকিম
তীর বেগে ছুটে চলেছে তুফান মেইল। কুউউ, কুউউ করে মাঝেমধ্যে হুইসেল বাজছে।
প্রথম শ্রেণীর রেলওয়ে ক্যারিজ। দারুণ সুন্দর এক তরুণী লাল ভেলভেটে মোড়া সিটে আধশোয়া হয়ে বসে আছে। ওর আঁটসাঁট করে বন্ধ আঙ্গুলে কাঁপছে পশমি কাপড় দিয়ে মোড়া দামি হাতপাখা; ছোট্ট, সুগঠিত নাকের ডগা থেকে বারবার খসে পড়ার উপক্রম করছে প্যাঁসনে জোড়া, সাগরে দোল খাওয়া জলযানের মতো বুকের ওপর উঁচু-নিচু হচ্ছে কারুকাজ করা ব্রোচ। আবেগে অধীর হয়ে আছে তরুণী।
উল্টো দিকের সিটে একজন তরুণ, বিশেষ কমিশনের প্রাদেশিক সচিব। তরুণ লেখকও বটে, অভিজাত শ্রেণীর বিলাসবহুল জীবন নিয়ে লেখা বড় গল্পগুলো মাঝেমধ্যে ছাপতে দেয় নামীদামি পত্রিকায়। ওর লেখার পরিণত ভাব, মুনশিয়ানা যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে।
তরুণীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে লেখক, চোখের দৃষ্টিতে সমঝদার একজন পন্ডিতকে চেনা যাচ্ছে, একই সঙ্গে চেনা যাচ্ছে মুগ্ধ একজন স্তাবককেও। ও দেখছে, যাচাই করছে, খুঁজে নিচ্ছে বিরল এই রহস্যের প্রতিটি ছায়ার মাত্রা আর রঙের গভীরতা। উপলব্ধি করছে ও, গভীরে ডুবে তল খুঁজে নিচ্ছে। তরুণীর আত্মা, ওর সম্পুর্ণ মন আর মানসিকতা, খোলা পড়ে রয়েছে তরুণ লেখকের সামনে।
‘আপনাকে আমি বুঝতে পারছি, আপনার অস্তিত্বের গোপন গভীরতাও আমার কাছে পরিষ্ককার!’ বললেন বিশেষ কমিশনের সচিব, তরুণীর ব্রেসলেট পরা হাতে চুমো খেলো। ‘আপনার স্পর্শকাতর, মায়াভরা আত্মার মুক্তি দরকার, ওটা পালাতে চাইছে...হ্যাঁ, জানি সংগ্রামটা কঠিন, রণক্ষেত্রও বিশাল। তবে হাল ছাড়বেন না, আপনি জিতবেন! জিততে আপনাকে হবেই!’
‘আমাকে নিয়ে লিখুন, ভল্ডেমার!’ বিষণ্ন একটু হাসির সঙ্গে বলল সুন্দর তরুণী। ‘আমার জীবনে এত কিছু ঘটেছে, কী বিচিত্র আর অদ্ভুত সেসব কাহিনী, এত উত্থান আর পতন−নাহ্, কারও সঙ্গে মেলে না। সবচেয়ে বড় কথা, আমি অসুখী। আমি যেন ঠিক দস্তয়েভস্কির পাতা থেকে উঠে আসা যন্ত্রণায় কাতর কোনো আত্মা। দুনিয়াকে আমার আত্মার কথা জানান আপনি, ভল্ডেমার। ওই ভাগ্যবিড়ম্বিত, অবহেলিত আত্মাটাকে বের করে আনুন। আপনি একজন সাইকোলজিস্ট। এক ঘণ্টাও হয়নি এই ট্রেনে একসঙ্গে আছি আমরা, অথচ এরই মধ্যে আপনি আমার হূদয়ের গভীর প্রদেশে পৌঁছে গেছেন।’
‘আপনি বলুন! আপনাকে আমার ব্যাকুল অনুরোধ, আপনি বলে যান!’
‘শুনুন তা হলে। আমার বাবা সাধারণ একজন দরিদ্র কেরানি ছিলেন। মনটা ভালো ছিল, বুদ্ধিমত্তাও কম ছিল না; কিন্তু যুগের হাওয়া...চারপাশের পরিবেশ...কী বলছি বুঝতে পারছেন তো?...বেচারা বাবাকে আমি কোনো দোষ দিই না। তিনি মদ খেতেন, জুয়া খেলতেন, ঘুষ...হ্যাঁ, তাও নিতেন। আমার মা...কিন্তু এত কিছু বলার কী দরকার? অভাব, রুটি জোগাড় করার দৈনন্দিন সংগ্রাম, আমি অবাঞ্ছিত আর আমার কোনো তাৎপর্য নেই এই উপলব্ধি−না, প্লিজ, সেসব স্নরণ করতে আমাকে বাধ্য করবেন না!
‘আমাকে আমার নিজের পথ দেখে নিতে হয়েছে। আপনি তো জানেনই বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষা কী রকম নিষ্ঠুর। আজেবাজে উপন্যাস পড়া, কৈশোর জীবনের ভুল-ভ্রান্তি, প্রথম প্রেমের ভয় জাগানো শিহরণ। সে এক বিচ্ছিরি অবস্থা! শুধুই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা! সেই সঙ্গে জীবনের প্রতি বিশ্বাস হারানো, নিজের প্রতি আস্থা না থাকা! আপনি আমাদের, মেয়েদের চেনেন। আপনি বুঝবেন। কেননা আপনি একজন লেখক! আপনার পক্ষে হয়তো বিশ্লেষণ করা সম্ভব−আমি যে খুব শক্ত প্রকৃতির মেয়ে, এটা আমার একটা অনিষ্টকারী দিক কি না।
‘আমার ওই শক্ত প্রকৃতি সুখ খুঁজে বেড়ায়। কখনো বিরতি নেয় না, ক্লান্ত হয় না, খুঁজতেই থাকে। জিজ্ঞেস করুন সেটা কী ধরনের সুখ! আমি আমার আত্মাকে মুক্ত করে দিতে চাই! দেখতে চাই মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যেখানে খুশি, যা খুশি করে বেড়াচ্ছে ওটা। হ্যাঁ। তাতেই আমি আমার সুখ দেখতে পাই!’
‘কী সুক্ষ্ম অনুভুতি!’ বিড়বিড় করল লেখক, সুন্দরীর হাতে আবার চুমো খেলো, এবার ব্রেসলেটের আরও কাছে। ‘এই চুমো আপনাকে নয়, খাচ্ছি দুর্দশাগ্রস্ত মানবতাকে। রাসকোলনিকভ আর তার চুমোর কথা মনে আছে আপনার?’
দস্তয়েভস্কির ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট-এ রাসকোলনিকভকে বলা হয়েছিল: ...‘রাস্তার তেমাথায় চলে যাও, মানুষের কাছে মাথা নত করো, চুমো খাও জমিনকে, কারণ ওর বিরুদ্ধেও পাপ করেছ তুমি, তারপর জোর গলায় সারা দুনিয়াকে শুনিয়ে বলো, আমি একজন খুনি।’
‘ওহ্, ভল্ডেমার! আমি খ্যাতি, সাফল্য, মর্যাদা ইত্যাদির কাঙাল, এই একটা ক্ষেত্রে আমি বাকি সবার মতোই...কোন্ দুঃখে বিনয়ী সাজতে যাব, বলুন? কেন অল্পে সন্তুষ্ট থাকার দর্শনে প্রভাবিত হব? আমার অসাধারণ কিছু দরকার, সাধারণ মেয়েরা যা কখনো আশা করতে পারে না, চাওয়ারই সাহস নেই ওদের! তারপর...ওহ্, তারপর...জীবনে চলার পথে একজনের সঙ্গে আমার দেখা হলো...’
‘কে তিনি?’ রুদ্ধশ্বাসে জানতে চাইল তরুণ লেখক।
‘বৃদ্ধ একজন জেনারেল, খুবই ধনী মানুষ। আমাকে বুঝতে চেষ্টা করুন, ভল্ডেমার! আমার জন্য ব্যাপারটা ছিল আত্মত্যাগ, আত্মসমর্পণ! এটা আপনাকে বুঝতে হবে! আমার আর কিছু করার ছিল না। পারিবারিক সৌভাগ্য আর সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনি আমি, যেখানে খুশি ঘুরে বেড়ানোর সামর্থ্য হয় আমার, যেকোনো ভালো কাজে হাত দিতে পারি। অথচ কীভাবেই না আমাকে ভুগতে হয়েছে! কী ঘৃণ্য, কী অপ্রীতিকরই না ছিল তাঁর ওই আলিঙ্গন...যদিও তাঁর প্রতি আমাকে বিবেচক ও ন্যায়নিষ্ঠ থাকতে হয়েছে, কারণ তাঁর সময়ে তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা, আত্মত্যাগী মানুষের মতো সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন।
‘কী সব দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে...কী রোমহর্ষক সব দুঃসময়...তবে এই আশায় বুক বেঁধে ছিলাম যে এমন দিন আসতে পারে, যখন এই বৃদ্ধ ভদ্রলোক বেঁচে থাকবেন না, আর তখন হয়তো আমি যেভাবে চাই ঠিক সেভাবে জীবন যাপন করতে পারব, নিজেকে তুলে দিতে পারব ওর হাতে, যে মানুষটিকে আমি ভালোবাসি−আমরা সুখী হব। হ্যাঁ, ওই রকম একজন মানুষ আছে, ভল্ডেমার, সত্যি আছে!’
সুন্দরী ললনা হাতপাখাটা আরও জোরে বাতাসে ঘোরাচ্ছে। ওর চেহারা কাঁদো-কাঁদো হয়ে উঠল, চোখ ভরা পানি টলটল করছে। তারপর আবার শুরু করল:
‘তারপর একদিন, অবশেষে, বৃদ্ধ জেনারেল মারা গেলেন। একথা বলব না যে আমার জন্য তিনি একেবারে কিছু রেখে গেলেন না। আকাশে ওড়া পাখির মতো মুক্ত হয়ে গেলাম আমি। এখনই তো আমার সুখী হওয়ার সময়, তাই না, ভল্ডেমার? সুখ এসে আমার জানালায় মাথা কুটছে। আমার শুধু ওটাকে ভেতরে ঢুকতে দিলেই হয়...কিন্তু...ভল্ডেমার, শুনুন! আপনাকে আমার দোহাই লাগে, শুনুন! মনের মানুষের হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এটাই তো সেই কাঙ্ক্ষিত মুহুর্ত, তাই না? ওর জীবনসঙ্গিনী হওয়ার এই তো সুযোগ, ঠিক বলছি না? আমার কাছ থেকে প্রেরণা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে ও, নিজ আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমার সাহায্য দরকার ওর। এটা আমাদের সুখী হওয়ার সময়, বিশ্রাম নেওয়ার সময়, জীবনটাকে পরম সুখে উপভোগ করার সময়।
‘কিন্তু ভল্ডেমার, কী অমর্যাদাকর, কী জঘন্য আর কী অর্থহীন আমাদের সবার জীবন! সবটাই কী ঘৃণ্য, ভল্ডেমার। আমি বিব্রত, আমি অসুস্থ! আমার পথে আবার একটা বাধা এসে দাঁড়াল! আবার আমি উপলব্ধি করলাম−সুখ আমার কাছ থেকে অনেক, অনেক দুরে! উফ্, কী যন্ত্রণা, কী যন্ত্রণা! আপনি যদি জানতেন, সে যে কী কষ্ট!’
‘কিন্তু কী...আপনার পথে আবার কী বাধা হয়ে দাঁড়াল? দয়া করে বলুন আমাকে! কী সেই বাধা?’
‘আরেকজন বৃদ্ধ জেনারেল, খুব ধনী...’ ভাঙা হাতপাখা ছোট্ট সুন্দর মুখটাকে লুকিয়ে রেখেছে।
তরুণ লেখকের কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়ল, হাবভাবে ফুটে উঠেছে অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের গাম্ভীর্য আর ধ্যানমগ্নতা। ট্রেনের ইঞ্জিন হিসহিস করছে, মাঝেমধ্যে কুউউ কুউউ করে হুইসেল বাজছে, ডুবতে শুরু করা সুর্যের আভা লাগায় লালচে হয়ে উঠল জানালার পরদা।
(ঈষৎ পরিবর্তিত)

আন্তন চেখভ
রুশ সাহিত্যিক আন্তন পাভলোভিচ চেখভের জন্ন ইউক্রেনের বন্দরনগরী ট্যাগানরগে, ১৮৬০ সালে। নাটক আর আধুনিক ছোটগল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তাঁর। মস্কোয় মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। তখনই পত্রপত্রিকায় হাস্যরসাত্মক, বিদ্রূপাত্মক গল্প লিখতে শুরু করেন। খুব দ্রুত লিখতে পারতেন, অনেক সময় একটা গল্প শেষ করতে এক ঘণ্টাও লাগত না। বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন, এসেছিলেন অখন্ড ভারতবর্ষেও। মারা যান ১৯০৪ সালের ১৫ জুলাই, জার্মানিতে।

কাপরু কা

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, May 30, 2008

কাপরু কা, নামা গাজপা, ভুতুমা নাকি , যাজাদৃ দুগি, বুগির চ্রগা, যহপকাদোদ;
নৃগাহপমনব বিদুদাহপ নকদিহুদজপক্
কাহিগযগ বাততিহহডত্দগু বাহডদযগহহন বাতহিডদ্গুড়ং
নবাতগিয বনতুগ
ব্দুহপ ব্তগগতপকা নবুগপত
দুবাগহডগ্ বাতহপ্জুদ হপজবককহহপ বাচপগবজচতৃ
হযুহপু প্গ গৃ পজহা হ্দ পহদরসআ বপহগবদো
টচপুহপ কতা জট্ক দুচপু যহপদাযি

মজার ঘটনা

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, May 21, 2008

রকি, রাজু আর রনি তিন বন্ধু। তাদের তিনজনের মধ্যে অনেক বিষয়েই আছে প্রচুর মিল। যেমন তাদের তিনজনেরই প্রিয় রঙ নীল, শখ বেড়ানো..। এ রকম আর কি! বর্তমানে তাদের তিনজনের কম্পিউটারেও একই সঙ্গে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর তাই নিয়ে চলছে তাদের মধ্যে আলোচনা...।

গল্প প্রসঙ্গে রকি বলে উঠলো, জানিস আমার কম্পিউটারের একটা আজব সমস্যা হয়েছে! ওটা চালালেই তিনবার পুঁ.. পুঁ.. পুঁ.. শব্দ হয়ে থেমে যায় মনিটরে কিছু্‌ই আসে না। এই সমস্যার কথা শুনে রাজুর কম্পিউটারের সমস্যার কথাও মনে পড়ে গেল। আরে আমার সমস্যাও তো প্রায় একই রকম! তবে আমার কম্পিউটারে কোনো পুঁ.. পুঁ.. শব্দ হয় না। কম্পিউটার চলছে তা বোঝা যায়, কিন' মনিটরে কিছুই আসে না। আমার এক বড় ভাইকে বলেছিলাম তিনি বলেছে এটি এজিপি কার্ডের সমস্যা। কিন' এজিপি কার্ডটি অন্য কম্পিউটারে লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি সেটি ঠিক আছে।

রকি আর রাজুর সমস্যার কথা শুনে রনি বললো, তোদের আর কি আজব সমস্যা আমার কম্পিউটারের সমস্যা তোদের চেয়েও অনেক বেশি আজব এবং মজার। তারা দুজন খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো কি এমন আজব সমস্যারে...? সমস্যা হলো কম্পিউটার চলছে.. চলছে... হঠাৎ করেই রিস্টার্ট হয়ে যায়। এক হার্ডওয়্যার টেকনিশিয়ানকে সমস্যার কথা বলেছিলাম তিনি বললেন, এটি লোভোল্টেজ, পাওয়ার সাপ্লাই কিংবা উইন্ডোজের সমস্যা। তার কথা মতো আমি প্রথমে ইউপিএস লাগিয়েছি কিন' তাতেও কাজ না হওয়াতে পাওয়ার সাপ্লাই পরিবর্তন করেছি। এরপরও সমস্যার সমাধান না হওয়াতে উইন্ডোজ৯৮, এক্সপি, উইন২০০০ সবই একবার করে ইনস্টল করে দেখেছি কিন' কোনো লাভ হয়নি। এখনো ওই একই সমস্যা চলছে কিছুক্ষণ পরপর কম্পিউটার একাই রিস্টার হয়ে যায়।

আহা তোমাকে

আমার নাম: green tree তারিখ:- Monday, May 05, 2008

আহা তোমাকে আজ শুধু মনে পড়ছে। তাই তো আমি কিছুই করিতে পারতিছি না। তবে কি ইহা আমার ব্যর্থতা, নাকি অন্য কিছু চিন্তা ভাবনার পরিচায়ক। তাই তো আমি কিছু বলতেছি না। কি বলিব , আরি কি শুনিব, তাই তো আমি চিনতাম না। তবুতো তাও কিছু বলেছিলাম। নাকি কিছু শোন নি।

সামঞ্জস্যহীন স্থানগুলো কখনও কখনও ব্যতিক্রমী সব গল্পের ইন্ধন যোগায়১৯৮৪ সালের প্রথম দিকে আমি ভ্যাটিকানে কয়েক রাত কাটিয়েছিলামআমাকে থাকতে দেয়া হয়েছিল এমন এক হোটেলে যা মূলত পর্যটনশীল ধর্মপ্রচারকদের জন্য নির্মিতসেখানে প্রতিটি বাথরুমে ইচ্ছাকৃতভাবে বিডেট (বিশেষ ধরণের জলশৌচের পাত্র) এর ব্যবস্থা করা ছিলপ্রাতঃরাশে প্রতিদিনই দেয়া হত আলুবোখারার জ্যামপ্রতিদিন এই এক জ্যাম খেতে খেতে বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিলবুঝতেই পারছিলাম না, প্রাতঃরাশের ঝুড়িতে এই এক ধরণের আলুবোখারা ছাড়া অন্য কিছু দিলে কি হয়, যেমন একটু স্ট্রবেরিও তো দিতে পারেএসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে তুলনামূলক সংস্কৃতির অসংখ্য বিষয় থেকে এমন একটির সাথে আমার সম্যক পরিচয় ঘটে গেলো যা জীবনকে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেআমাদের বিজ্ঞানী গ্রুপটা রোমে গিয়েছিলো "পন্টিফিশিয়াল একাডেমি অফ সাইন্সেস" কর্তৃক স্পন্সরকৃত একটি সম্মেলনে যোগ দিতেসম্মেলনের বিষয় ছিল "নিউক্লিয়ার উইন্টার"হোটেলে আমাদের সাথে ছিল ফরাসি এবং ইতালীয় ধর্মপ্রচারকদের একটা দল যাদের সবাই আবার পেশাদার বিজ্ঞানী

যা খুশি তাই

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 30, 2008

আমার সাইটে যা খুশি তাই লিখব , তাতে তোর কি?
আমার মনে যা খুশি তাই ভাবব, তাতে তোর কি?
আমার পায়ে আমি যেমন খুশি তেমন হাটব, তাতে তোর কি?
আমার হাতে আমি যেমন খুশি তেমন ধরব, তাতে তোর কি?

কিছুই তুই বলতে পারবি না। কারণ তুই আমার কেউ না। যা তুই দিয়েছিস গতকাল সকালে, তা আমার সাথে থাকবে সারাজীবন। কিন্তু তুই হয়তো এতে কিছু মনে করবি না। কারণ তুই তো কিছু নিস নি, আমাকে দিয়েছিস, যে দেয় সে কিছু মনে রাখে না। কিন্তু যে নেয় সে সারাজীবন তা বয়ে বেড়ায়। নিয়ে বেড়ায় সাথে করে। মনের উপরিতলে ভেসে থাকে বুদবুদ এর মত। না উপমাটা ঠিক হল না। বুদবুদ তো উড়ে যায়। বরং বলতে হবে ভেসে থাকে সরের মত। উপরে স্পর্শ করলেই তা বোঝা যায়। স্পষ্ট বোঝা যায়।

লু লু

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 23, 2008

লু লু লা লা
লু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লালু লু লা লা
পু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পাপু পু পা পা
নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না নু নু না না
উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ উ উ আ আ
কি মজা তাই না
এভাবে শব্দের সাথে শব্দের লেজ মিলিয়ে দিতে কতই না ভাল লাগে। হি হি হি হি

তাইরে নাইরে না

আমার নাম: green tree তারিখ:- Saturday, April 19, 2008

তাইরে নাইরে না। কোথায় যাবি যা। বলবি নাতো কি হয়েছে। জেনে নেব আমি। না বললেও জেনে নেব আমি। ওরে আমার ফুলচুষি। তোরে দেখে আমি খুব খুশি।
সেইজন্য বললাম। কোথায় যাবি বলে যা। বলে যা। ওরে আমার ফুলচুষি। তাইরে নাইরে না।
খাইরে ভাইরে গা
ভুতুম পেঁচার না
বিরাট একটা হা
আজকে পাবি না
লা লা লা লা
পা পা পা পা
গা গা গা গা
কা কা কা কা
খা খা খা খা
তাইরে নাইরে না। কোথায় যাবি যা। বলবি নাতো কি হয়েছে। জেনে নেব আমি। না বললেও জেনে নেব আমি। ওরে আমার ফুলচুষি। তোরে দেখে আমি খুব খুশি।

কত দিন আর কত দিন

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 16, 2008

কত দিন আর কত দিন চলবে এমন
জানিনা তা বলব কেন তোমায় যেমন
চলছে তেমন চলুক না এই দুনিয়া
তাতে এই যে আশায় কার পড়ে ছাই পড়ুক না

ওরে বৈশাখ

আমার নাম: green tree তারিখ:- Monday, April 14, 2008

ওরে বৈশাখ
তুই কেন আসিস। তুই আসলে যে আমার বড়ই শরমিন্দা লাগতাহ্যায়। হামনে তো কুছ কুছ কেয়া বলতা পারতানাহি। তাই বলছিলাম। তুনে আর নেহি কামিং।
আমার লুকিং ফর কালচার এন্ড হেরিটেজ। So our potics ইজ ব্যাড। তাই আই ডোন্ট কেয়ার কি কথা কে কোথায় বলল তা নিয়ে। আমি তাই এসব ভাবিতে পরিতেছি না। আমি বলব, বলতে চাই যে এই সব ফালতু কথা দিয়ে আমার মন পাওয়া যাবে না। আমি যে কি তোমার তুমি তা বুঝে নাও। আমি চিরদিনই তোমারই তো থাকব না আ আ আ আ। তুমি আমার আমি তোমার না আ আ আ আ । আমি যে কি তোমার তুমি তা বুঝে নাও।

ইট ইজ দ্যা ফ্যাক্ট। তাই ঘটনার পিছনে যাহা রটনা রহিয়াছে তাহা কিঞ্চিৎ হইলেও উপশম হইলেও হইতে পারে। তবে যতক্ষণ তাহা না হইতেছে তাহা ততক্ষণ পর্যন্ত নির্দিষ্ট করিয়া কিছুই বলা সম্ভব না। এই বলিয়া আমি আমার স্বকপোল কল্পিত বক্তব্য মালার অনর্গল চিৎকাররাশি ব্যক্ত করা বন্ধ তথা স্টপ করিতে পারিতাম। কিন্তু আমি তাহা করিব না। কারণ এখন মাইক আমার হাতে। আমি যতক্ষণ খুশি, যাহা খুশি বলতে থাকব । না হরে চলবে না। কেন চলবে বলুন। আপনারাই সারাক্ষণ ভ্যদরভ্যাদর করতে থাকবেন আমাদেরকে একটুও চান্ছ দিবেন না তা তো হতে পারে না চান্দু মিয়া। তা তো হতে পারে না।
বুঝিলেন চান্দু ভাই?

মেলা ফ্যাচাং

আমার নাম: green tree তারিখ:- Sunday, April 13, 2008

মেলা ফ্যাচাং
এই জীবনে
শুধু তোমায়
ভর দুপুরে
কি তা বলবনা

উথাল কথা
মর্ম ব্যথা
অবাক করে
দিন দুপুরে
সেটা আমি জানি না

উচাং ফাচাং

আমার নাম: green tree তারিখ:- Friday, April 11, 2008

আমি কবিতা লিখছি। এটা যেন মনে থাকে। আর কবিতার কোন সংজ্ঞা নেই। তাই চুপচাপ বইসা বইসা পড়েন। নইলে ফুটেন।

আমার কবিতার নাম "উচাং ফাচাং"
উচাং ফাচাং হা হা
পাখির ছানা খা খা
যেমন খাবি তেমন পাবি
নইলে তো আর কোথায় যাবি
আমি কিছু দিব না
কি দিব তা বলব না

উচাং ফাচাং হা হা
পাখির ছানা খা খা

ভুয়া ফাকা

আমার নাম: green tree তারিখ:- Thursday, April 10, 2008

জীবনটা একটা ভুয়া ফাকা, হাপা, গাপা
তাই তো সব লাপা, মাকা,
সেই যে ভাল উচুংকা
তাই তো বলি ভুচুংকা
কির কির ফু দুরবুর
মুং কা লি উর খুর

আহা আজি এ বসন্তে

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 09, 2008

আহা আজি এ বসন্তে
এত ফুল ফোটে
এত পাখি গায়
এত ........
আহা আজি এ বসন্তে

সুখে আছে যারা
সুখে থাক তারা

না আজ আর গান টান ভাল লাগছেনা। অবশ্য টান বলতে আমার কাছে এখন কোন কিছুই নাই, তাই কথাটা একটা কথার কথা হিসেবেই পরিগণিত হবে।
তবে কি টান কিছু একটা এখন থাকলে মন্দ হত না। একেবারে মাইরা দিয়া বইসা পড়তাম।
কি মজাই না হইত। আহা মনটা দুখ হইয়া গেল গা।

কিছুই করা হয় না।

আমার নাম: green tree তারিখ:- Tuesday, April 08, 2008

চারপাশের এত দু:খ টুকখ, জ্বালা যন্ত্রণা সব কিছু দূরে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে। মনটা চাচ্ছে কত কিছুই না করার। কখনও ভাবি এটা করব, কখনও ভাবি ওটা করব। কিন্তু কিছুই করা হয় না। তাই মনে হয় এসব ভাবনার কোন মূল্য নেই; কোন গুরুত্ব নেই। জীবনের কি কোন মূল্য আছে? না আমাদের দেশে তাও নেই। এখানে আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষেরা শুধু সংখ্যা মাত্র। আমাদের প্রয়োজন শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সংখ্যার প্রয়োজনে।

লিখতে হবে

আমার নাম: green tree তারিখ:- Monday, April 07, 2008

লিখতে হবে নানাকিছু। তাহলে তা ব্লগিং এর পর্যায়ে যাবে। না হলে তো তাহাকে ব্লগিং বলা যাবে না। আশেপাশে কত ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে। তার কিছুই কি লেখার মত নয়। না তা নয় । এদের প্রত্যেকটা ঘটনা নিয়ে মহাকাব্য লেখা যায়। কিন্তু এজন্য আপনাকে সুলেখক হতে হবে। না হলে আপনি কিছুই লিখতে পারবেন না।

নানা রঙের দিনগুল

আমার নাম: green tree তারিখ:- Sunday, April 06, 2008

সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। রইল না। রইল নাআ আ আ আ আ আ আ আ । সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
দিনগুলি মোর সোনার খাচাআ আ আ আ আয়

কেন রইল না, কেউ তা জানেনা। তবে কি তা গোপন কিছু? নাকি অবৈধ ব্যাপারস্যাপার। খোলা চোখে দেখলে কত কিছুই না মনে হয়। তবে কি যাদের চোখ বন্ধ তারাই আজ বেশি দেখছে। একথা কার লেখায যেন পড়েছিলাম। অন্ধরা আজ দেখছে সবচেয়ে বেশি। এটাই বোধহয় বাস্তব। তা না হলে কি আর এতসব জটিলতার সৃষ্টি হত?

The date is showing

আমার নাম: green tree তারিখ:- Thursday, April 03, 2008

Now the date is showing. Thanks dBlog Template forum.
If my friend want to get and suggestion about template
please visit http://www.eblogtemplates.com/blog-forum

I must recommend them.

i am sorry

আমার নাম: green tree তারিখ:- Thursday, April 03, 2008

i am really sorry about this template. i like the color, Bangla language support so decided to use it. but i found a great problem.
this template don't shows the date.
So i am worried.

শিল্পী আমি

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 02, 2008

গান গাওয়া শখ যে আমার
তাই তো আমি গান গাই

গলা তো নয় যেন ফাটা বাঁশ
তবুও গান গাই নাম পলাম।

শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো
তোমাদেরই মন ভরাব
শিল্পী আমি তোমাদেরই মাছে
শিল্পী আমি তোমাদেরই মাছে
চিরদিন বেচে রবওওওওওওওও

শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো
তোমাদেরই মন ভরাব
শিল্পী আমি তোমাদেরই মাছে
শিল্পী আমি তোমাদেরই মাছে

সেই যে আমার

আমার নাম: green tree তারিখ:- Wednesday, April 02, 2008

সেই যে আমার নানারংঙের দিনগুলি
রইল না রইল না
সেই যে আমার নানারঙের দিনগুলি


দিনগুলি মোর সোনারা খাচায়...

দিন যায় কথা থাকে
সে যে কথা দিযে রাখল না
ভুলে যাবার আগে ভাবলনা
সেকথা লেখা আছে বুকে
দিন যায় কথা থাকে।